Header Ads Widget

আমি বাজারের নই, মাজারের গীতিকার: জন্মদিনে মিলন খান

মিলন খান।

আজ ৩১ মার্চ, নিজের ভাষায় “২১তম জন্মদিন” উদযাপন করছেন এক ভিন্নস্বভাবের গীতিকার। প্রতিবছরের মতো এবারও ছোট পরিসরে দিনটি স্মরণ করছেন তিনি। তবে জন্মদিনের এই উপলক্ষে তার আত্মকথনে উঠে এসেছে সংগীতজীবন, বঞ্চনা, দর্শন এবং নিজস্ব অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট উচ্চারণ।

তিনি জানান, ১৯৮৮ সালে তার লেখা প্রথম গানটি কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর কণ্ঠে সুপারহিট হয়। সেই শুরু থেকে টানা লিখে চলেছেন—কম বেশি, নিয়মিত কিংবা অনিয়মিতভাবে। তবুও নিজেকে তিনি আখ্যা দেন “সময়ের সবচেয়ে অ-পপুলার গীতিকার” হিসেবে। জনপ্রিয়তার প্রতি তার অনাগ্রহ স্পষ্ট করে বলেন, “জনপ্রিয় শব্দটা আমার পছন্দ না।”

নিজস্ব স্বকীয়তায় বিশ্বাসী এই গীতিকার বলেন, “আমি আমার মতো চলি, বলি, লিখি। আমি বাজারের না, আমি মাজারের গীতিকার।” নিজেকে তিনি তুলনা করেন লালন, হাসন কিংবা মিলনের ধারার সাথে—একজন ‘উন্মাদ’ সৃষ্টিশীল মানুষ হিসেবে।

১৯৯২ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ থেকে পাশ করার পরও তিনি কোনো চাকরিতে যোগ দেননি, নেননি উচ্চতর ডিগ্রিও। জীবনের চার দশকেও বিদেশমুখী হননি—যেখানে তার দুই ভাই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। এ প্রসঙ্গে তার ভাষ্য, “ডলার খেকো হইনি, হবোও না।”

সমালোচনা কিংবা অবমূল্যায়ন তাকে বিচলিত করে না বলেও জানান তিনি। বরং চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন—“আমার লেখা গানের সাথে তুলনায় আসো।” তার কাছে গানই জীবন-মরণ, অস্তিত্বের একমাত্র সংজ্ঞা।

বর্তমান সংগীতাঙ্গনের বিভিন্ন দখলদারিত্ব, পুরস্কারপ্রবণতা এবং প্রচারমুখীনতার প্রতি তীব্র অনীহা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “রেডিও-টেলিভিশন-পেপার দখল, পুরস্কার দখল—এসব আমি ঘৃণা করি।”

গীতিকারদের প্রাপ্য সম্মান না পাওয়া নিয়েও আক্ষেপ রয়েছে তার। দাবি করেন, শিল্পীদের সাফল্যের পেছনে গীতিকারদের অবদান অস্বীকার করা হয়। এমনকি তাদের জন্মদিনেও অনেক সময় সহশিল্পীরা শুভেচ্ছা জানাতে কার্পণ্য করেন।

সবশেষে নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি মেঘনা পাড়ের ছেলে। পলি মাটির মতো উর্বর, খাঁটি।”

অমরত্বের স্বপ্ন বুকে লালন করা এই গীতিকার এখনো বিশ্বাস করেন—তার গানই একদিন তাকে আকাশ ছুঁইয়ে দেবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ