Header Ads Widget

আসিফ আকবর এর স্ট্যাটাস ঘিরে ভক্তদের কপালে চিন্তার ভাঁজ

আসিফ আকবর | ছবি: সংগৃহীত

যাযাবর পলাশ, বিনোদন প্রতিবেদক: একজন আসিফ আকবর। এক নামেই যার পরিচয়। বাংলাদেশের অডিও ইন্ডাস্ট্রিতে 'ও প্রিয়া তুমি কোথায়' এ্যালবাম দিয়ে যার রাজকীয় উত্থান। আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিকে শাসন করছেন প্রায় দুই যুগের কাছাকাছি। শুধু বাংলাদেশেই নয়, ওপার বাংলা থেকে শুরু করে বিশ্বব্যাপী সকল বাংলা ভাষাভাষী গানপাগল শ্রোতাদের কাছে তিনি অসম্ভব প্রিয় একজন সঙ্গীতশিল্পী। আর তাই ভক্তরা তার নাম দিয়েছেন বাংলা গানের যুবরাজ। কিন্তু মাঝখানে রাজনৈতিক কারণে অভিমানে গান ছেড়ে দূরে সরে গিয়েছিলেন। পরে অবশ্য আবারও অডিও পাড়ায় ফিরে আসেন বীরদর্পে। সেই থেকে এই অবধি উপহার দিয়ে চলেছেন একের পর এক হিট গান। ব্যাপার টা এমন যেন, আসিফ আকবর এর গান মানেই ভক্তদের মাতামাতি। তবে আগের মতো দেশে বা দেশের বাইরে কোন কনসার্টেই অংশ নিতে দেখা যায়না তাকে। কিন্তু কেন? এর কারণ খুঁজলে দেখা যায়, আসিফ আকবর ব্যক্তিগত জীবনে বিরোধী দলের রাজনীতির সমর্থক। আর এ কারণেই হয়তো তাকে এড়িয়ে চলা হয়, দেশের বড় বড় আয়োজনে ডাকা হয়না। কিন্তু দেশের বাইরে থেকে তিনি নিয়মিত ডাক পান, অথচ সেখানেও অংশ নিতে যেতে পারেন না। কারণ এক্ষেত্রে তিনি পাসপোর্ট এবং ভিসা জটিলতায় ভুগছেন। আর সেকারণেই মঞ্চ থেকে অনেক দূরেই সরে রয়েছেন দেশের প্রভাবশালী এই জননন্দিত কণ্ঠশিল্পী। এ নিয়ে অবশ্য মাঝেমধ্যে নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে ক্ষোভ প্রকাশ করতেও দেখা গিয়েছে তাকে। অভিমানের পাল্লা যেন অনেক ভারি হয়ে গিয়েছে। এই অভিমান গুলো জমতে জমতে বুকের ভেতর হয়তো পাহাড় আকার ধারণ করেছে তার। আর তাইতো গেলো শনিবার আসিফ তার ফেসবুক টাইমলাইনে দীর্ঘ একটি অভিমানী স্ট্যাটাস দিয়েছেন। যে স্ট্যাটাসটি ভক্তদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে। তার এই দীর্ঘ অভিমানী স্ট্যাটাসে একটা বিষয় স্পষ্ট যে, তিনি আর এই হেয় প্রতিপন্নতা মেনে নিতে পারছেন না। যে কারণে শুধু এদেশের মঞ্চ কিংবা মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রি নয়, একেবারে দেশ ছেড়েই চলে যেতে চাইছেন তিনি! ভক্তদের প্রশ্ন, তাহলে কি আমরা হারাতে বসেছি একজন জীবন্ত কিংবদন্তী শিল্পীকে?

নিচে কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর এর স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো -
কনসার্ট করতে আসলেই আমার খুব ভয় লাগে। স্কুল বন্ধু ফখরুল ফোন দিয়ে বললো একটা কনসার্টের কথা, সবিনয়ে না করে দিলাম। কলেজের কনসার্ট, প্রায় ত্রিশ মাস পর মাইক্রোফোন ধরতে হবে। নাহ বাংলাদেশে আমার আর কনসার্ট হবেও না, করবোও না। কোন টেলিভিশন চ্যানেলেও গাইবোনা। খুব চাপে না পরলে টিভি চ্যানেলে কথাবার্তার অনুষ্ঠানেও যাইনা। 

দেশের বাইরে কনসার্টে অংশ নেয়ার প্রতিবন্ধকতা সংক্রান্ত বিষয় উল্লেখ করে আসিফ লিখেছেন, সুপ্রীম কোর্ট বন্ধ ছিলো, তাই পাসপোর্ট প্রাপ্তির জন্য আবেদন করতে পারিনি। এই সপ্তাহেই করে ফেলবো। ডাকসাইটে আইনজীবী বন্ধু সাজ্জাদ হায়দার এই মামলার দায়িত্ব নিয়েছে। কাগজপত্র রেডী করেছি। আজ ফোন দিলো ৭১ টিভির স্পোর্টস রিপোর্টার এহসান, আমাকে খুব ভালবাসে। বললো সেপ্টেম্বরে কাতারে একটা শো আছে। হাসি চলে আসলো অটোমেটিক, কারন উত্তর রেডী, পাসপোর্ট নাই। এবছর টার্গেট ছিলো প্রচুর বিদেশ ট্যুর করবো, অল কেন্সেলড। 

নিজের সঙ্গীত জীবনের শুরুর দিক আলোকপাত করে তার উত্তরসূরীদের উদ্দেশ্যে তিনি লিখেন, বাংলাদেশ আমাকে অনেক দিয়েছে, অনেক…….. কুমিল্লার গলি থেকে উঠে এসে থেকে দেশ কাঁপানোর সুযোগ পেয়েছি। মানুষ আমাকে চেনে জানে ভালবাসে। একটা সময় আমার অ্যালবামে ইন্ডাষ্ট্রী চাঙ্গা হতো। হাজারো পরিবারের আয় রোজগার চলতো। এখন দেখি তরুন শিল্পীরা কোনমতে একটি হিট গান দিতে পারলে নিজে বেঁচে যায়, ক্যারিয়ারটা ধরে রাখার জন্য একটু সময় পায়। তাদের সংগ্রাম দেখে মন খারাপ হয়, কত অনিশ্চয়তা নিয়ে শুধু গানকে ভালবেসে একটা জীবন রেসে’র ঘোড়া হয়ে বাঁচে ওরা। সেই তুলনায় আমি অনেক সৌভাগ্যবান।

পরিশেষে নিজের বর্ণিল সফলতার কথা স্মরণ করে তিনি লিখেছেন, একটা বর্ণিল জীবন কাটিয়েছি। সফলতার এভারেস্টে চুমু দেয়াটা অভ্যাসে পরিনত করে ফেলেছি। আর কিচ্ছু চাওয়ার নেই, দেশকেও আর কিচ্ছু দেয়ার সক্ষমতা নেই, কাজ করারও জায়গা নেই। বুদ্ধিমানরা সবাই এখন প্রবাসী, হারাধনের শেষ সন্তান হিসেবে রইলাম বাকী আমি। চৌদ্দ বছর আগে পাওয়া আমেরিকার নাগরিকত্ব অফারটা এখনো চালু আছে, পাসপোর্ট প্রাপ্তি স্বাপেক্ষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবো। পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থেই যেতে হবে। বেকার থেকে দেশের চাল নষ্ট করার কোন মানে হয়না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ