বাংলা গানের জগতে ধীরে ধীরে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নেওয়া এক গীতিকারের নাম গিয়াস সানি। সিলেট জেলার বিশ্বনাথ থানায় বেড়ে ওঠা এই গীতিকবি ছোটবেলা থেকেই সাহিত্যের প্রতি গভীর অনুরাগী ছিলেন। কবিতা লিখতে লিখতেই একসময় শব্দের সেই অনুভব গানে রূপ নিতে শুরু করে। আর সেখান থেকেই শুরু হয় তার সংগীতজীবনের দীর্ঘ যাত্রা।
২০১৪ সালে মিডিয়ায় আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেন গিয়াস সানি। একই বছর জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী এফ এ সুমন–এর একক অ্যালবাম ‘যাদু রে’-তে প্রকাশিত “ওরে প্রিয়া” গানটির মাধ্যমে প্রথমবারের মতো শ্রোতাদের সামনে আসেন তিনি। প্রথম গান দিয়েই সংগীতাঙ্গনে সম্ভাবনার জানান দেন এই গীতিকার।
এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য অডিও প্রতিষ্ঠান ও ইউটিউব চ্যানেলের জন্য গান লিখেছেন তিনি। তার লেখা গান প্রকাশ পেয়েছে জি-সিরিজ, সিডি চয়েজ, সিডি ভিশন, ঈগল মিউজিক, সিডি জোন ও সংগীতা-সহ নানা প্রতিষ্ঠানে। প্রায় দুই শতাধিক গানের গীতিকার হিসেবে ইতোমধ্যে নিজস্ব পরিচিতি গড়ে তুলেছেন তিনি।
গিয়াস সানির লেখা গান গেয়েছেন দেশের অনেক জনপ্রিয় ও প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পী। তাদের মধ্যে রয়েছেন বেলাল খান, দিলরুবা খান, পথিক উজ্জ্বল, রফিকুল আলম, ফারুক সুমন, নুসরাত কৃতি, ওয়াহিদ রুবেল, সজিব শান-সহ আরও অনেকে।
সংগীতজীবনে তার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা সংগীত পরিচালক ও শিল্পী এফ এ সুমন। এছাড়াও বাউল গানের প্রতি রয়েছে তার গভীর ভালোবাসা। বিশেষ করে বাউল আব্দুল করিম এবং পাগল হাসান–এর গান তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। পাগল হাসানের সান্নিধ্য পাওয়াকে নিজের জীবনের সৌভাগ্য বলে মনে করেন তিনি। এই গুণী শিল্পীর মৃত্যু তাকে আজও শূন্যতায় ভোগায়।
আধুনিক গানের গীতিকারদের মধ্যেও কিছু মানুষের কাজ তাকে অনুপ্রাণিত করে। তিনি পছন্দ করেন রবিউল ইসলাম জীবন, জাহিদ আকবর, অনুরুপ আইচ, সোহাগ ওয়াজিউল্লাহ ও জনি হক–এর গান।
শিক্ষাজীবনেও ছিলেন মেধাবী। সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজ থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন তিনি। বর্তমানে বিশ্বনাথ সরকারি কলেজ-এ শিক্ষকতা করছেন। শিক্ষকতা, সাহিত্যচর্চা ও গানের জগৎ—এই তিনের সমন্বয়ে তিনি এগিয়ে চলেছেন নিজের স্বপ্নের পথে।
গিয়াস সানি জানান, সামনে বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলে তার নতুন নতুন গান প্রকাশ পাবে। শব্দ, সুর আর অনুভূতির মিশেলে বাংলা গানে তিনি আরও দীর্ঘ পথ হাঁটতে চান।
.jpg)





0 মন্তব্যসমূহ