বাংলা গানের ভুবনে যারা দীর্ঘ সময় ধরে শব্দের সঙ্গে খেলে চলেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম গীতিকার রনক রায়হান। বাবার চাকরির কারণে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামীতে বেড়ে ওঠা রনকের, ছোটবেলা থেকেই ছন্দ আর সুরের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত ছিলেন।
লেখালেখির হাতেখড়ি কবিতার মাধ্যমে। ২০০১ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এরপর ধীরে ধীরে গানকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেন। রনক রায়হান বলেন, কবিতা দিয়ে শুরু হলেও গানেই আমি নিজেকে সবচেয়ে বেশি খুঁজে পাই।
২০০৫ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম গান, যা কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় দুই শিল্পী মমতাজ ও আশরাফ উদাস। রনক বলেন, প্রথম গান প্রকাশের পরই বুঝেছিলাম এটাই আমার পথ।
এই গান দিয়েই তিনি নিশ্চিত হন, গানই হবে তার আসল ঠিকানা।
রনক রায়হানের লেখা গান কণ্ঠ দিয়েছেন বাংলা সংগীতের বহু জনপ্রিয় শিল্পী। সাবিনা ইয়াসমিন, আগুন, ডলি সায়ন্তী, আলম আরা মিনু, কীরণ চন্দ্ররায়, আশরাফ উদাস, মমতাজ, কুদ্দুছ বয়াতী, ফজলুর রহমান বাবু, আকাশ সেন, সালমা, লায়লা, আকশ মাহমুদ, মুনিয়া মুনসহ আরও অনেকে।
তিনি নিজেও বলেন, লোকজ অনুভূতিই আমার লেখার মূল শক্তি।
তিনি আরও যোগ করেন, গান আমার কাছে বিনোদন নয়, জীবনের কথা বলার সবচেয়ে সহজ ভাষা।
রনক রায়হানের বহু গান জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- ‘পদ্মাবতী’ (অংকন ও ইমন খান), ‘আমার কেহ নাই রে বন্ধু’ (আকাশ মাহমুদ), ‘আমি মরা গাছের ঝরা ফুল’ (শারমীন), ‘যে মরলো এই বুকে ছুরি’ (গামছা পলাশ), ‘পিরিত বড় কষ্ট’ (শফি মন্ডল), ‘অবিচার’ (আকাশ মাহমুদ), ‘জামাই আদর’ (আকাশ সেন ও সানজিদা রিমি), ‘বুকের ভেতর কি যন্ত্রণা’ (ইমন খান), ‘প্রেমের আগুন’ (মুনিয়া মুন), ‘নারী হইলো শখের জিনিস’ (আকাশ মাহমুদ ও স্বর্ণ)।
এই গানগুলোতে প্রেম, বিচ্ছেদ, বেদনা এবং সামাজিক বাস্তবতা ফুটে উঠেছে। রনক বলেন, মানুষের প্রেম, কষ্ট আর বেদনা না থাকলে গান টেকে না।
বর্তমানে রনক ব্যস্ত রয়েছেন বেশ কয়েকটি বিগ বাজেট সংগীত প্রকল্প নিয়ে। আকাশ সেনের সংগীতায়োজনে শিগগিরই আসছে নতুন গান ‘বসন্ত কুকিল’, পাশাপাশি ‘কাচ্চি বিরিয়ানি’ শিরোনামের আরেকটি গান প্রস্তুত।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত গান-‘বাটি চালান’ (আকাশ মাহমুদ ও লায়লা), ‘ওরে মন’ (আকাশ সেন ও তারান্নুম আফরিন), ‘সোনা বাবু’ (মুন ও রজ্জব খান)- শ্রোতাদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ভালো সাড়া ফেলেছে। তিনি বলেন,সহজ ভাষায় গভীর কথা বলাই একজন গীতিকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
রনক রায়হানের আইডল বাংলা গানের কিংবদন্তি মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান। তার কাছ থেকেই গানের দায়িত্ব ও সততার পাঠ নিয়েছেন। তিনি বলেন , মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান স্যারের গান আমাকে শিখিয়েছে- গানে সততা না থাকলে কিছুই থাকে না।
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে শব্দকে সঙ্গী করে গানের ভেতর দিয়ে নিজের পথ তৈরি করে চলেছেন রনক রায়হান। জনপ্রিয়তার চেয়ে তিনি বিশ্বাস করেন গানের স্থায়িত্বে।
নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, প্রতিটা নতুন গান লিখতে বসলে এখনো ভেতরে ভয় কাজ করে-এই ভয়টাই আমাকে সৎ রাখে।
সময় বদলালেও মানুষের অনুভূতির জায়গা বদলায় না-এই বিশ্বাস নিয়েই এগিয়ে চলেছেন রনক রায়হান, গানের ভেতর দিয়ে মানুষের কথা বলার এক নিরলস যাত্রায়।








0 মন্তব্যসমূহ