Header Ads Widget

রমজানই ওজন কমানোর ভালো সময়: সুমি



ফিটনেস মডেল ও ‘প্রো এক্স ফিটনেস জিম’-এর স্বত্বাধিকারী সুমাইয়া আক্তার সুমি। এখন নিয়মিতই আলোচনায় থাকেন তার স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক বক্তব্য ও লাইফস্টাইল গাইডলাইন নিয়ে। সাম্প্রতিক এক আয়োজনে উপস্থিত হয়ে তিনি নিজের পরিচয়, কাজের দর্শন এবং রমজানকে ঘিরে ফিটনেস ভাবনা তুলে ধরেন। এ সময় তার পরনে ছিল মার্জিত ও গ্ল্যামারাস একটি ডার্ক টোনের আউটফিট, যা তার আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতিকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।

কথোপকথনে সুমি বলেন, 'রমজানকে অনেকেই শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেন, কিন্তু স্বাস্থ্য সচেতনদের জন্য এটি এক ধরনের স্বাভাবিক ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের সুযোগ। সঠিকভাবে খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এই সময়টা শরীর মেইনটেইন, ফ্যাট লস বা টোনিংয়ের জন্য বেশ কার্যকর হতে পারে।' তার ভাষায়, ইফতারে অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড খাওয়ার প্রবণতা অনেকের মধ্যেই দেখা যায়, যা পুরো দিনের উপকারিতা নষ্ট করে দেয়। তাই সেহরি ও ইফতারে কী খাচ্ছেন, কতটুকু ক্যালোরি নিচ্ছেন এবং খাবারের মান কেমন—এসব বিষয়ে সচেতন থাকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

“রমজান ওজন কমানোর জন্য ভালো সময় হতে পারে, যদি আমরা ডিসিপ্লিন মেনে চলি,” বলেন তিনি। নারীদের প্রসঙ্গে আলাদা করে কথা বলেন সুমি।

নিজেকে একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, তার টার্গেট গ্রুপ মূলত কর্মজীবী নারী ও গৃহিণীরা। যারা দীর্ঘ সময় বসে কাজ করেন বা হাঁটাচলা কম করেন, তাদের শরীরে অতিরিক্ত ফ্যাট জমার প্রবণতা বেশি থাকে। তবে সবার পক্ষে জিমে যাওয়া সম্ভব না হলেও, ক্যালোরি কাউন্টিং এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে ঘরেই অনেকটা পরিবর্তন আনা যায় বলে মনে করেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে সুমি স্পষ্ট করেন, বরং একজন ফিটনেস মডেল এবং জিমের মালিক হিসেবে নিজের পাঁচ-ছয় বছরের অভিজ্ঞতা থেকে পরামর্শ দেন। শরীরের কার্যপ্রণালি, ফুড ইনটেক এবং ওয়ার্কআউটের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যের সম্পর্ক—এসব বিষয় নিয়ে তিনি নিয়মিত পড়াশোনা ও তথ্য সংগ্রহ করেন।

তার মতে, ফিটনেস মানে শুধু ওজন কমানো নয়; বরং সঠিক জীবনযাপন। নিয়মিত ঘুম, শরীরের সার্কেডিয়ান সাইকেল ঠিক রাখা, পরিমিত খাবার গ্রহণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যায়াম—এসব মিলিয়েই গড়ে ওঠে সুস্থ জীবন। “ভালো খাবার আর নিয়মিত অনুশীলন শুধু শরীর নয়, মনকেও ভালো রাখে। এতে এনার্জি বাড়ে, আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি পায়,” বলেন সুমি।

সবশেষে তিনি মনে করিয়ে দেন, স্বাস্থ্য সচেতনতা কোনো এক মাসের বিষয় নয়। এটি সারা বছরের অভ্যাস হওয়া উচিত—তবেই মিলবে কাঙ্ক্ষিত সুস্থতা ও ফিটনেস।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ