Header Ads Widget

‘পরান’ ও ‘জীবনপাখি’ চলচ্চিত্রের পোস্টার প্রসঙ্গ

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ এক যুগপর বাংলা চলচ্চিত্রের সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। রায়হান রাফির ‘পরাণ’ ও মেজবাউর রহমান সুমনের ‘হওয়া’ এই সিনেমাটা দুটো মুক্তির পর হলমুখি হয়েছে মানুষ। বর্তমানে দুটো সিনেমা ব্যবসা সফল হয়েছে। এরপরে একের পর নতুন সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে। এদিকে, জাতীয় পর্যায়ে ‘পরান’ সিনেমাটির বানান নিয়ে বেশ আলোচিত হয়েছে৷ ছোট থেকে বড় সবার নজরে এসেছে এটি। সম্প্রতি জনপ্রিয় গীতিকবি নীহার আহমেদ -এর ছেলে নিসর্গ তাঁকে ‘পরাণ’ সিনেমার বানান প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দীর্ঘ একটি পোস্ট দিয়েছেন তিনি। বিনোদন পোস্ট -এর পাঠকদের কাছে গীতিকবি নীহার আহমেদ -এর ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

আমার পুত্র নিসর্গ আনান চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। ওর প্রাইভেট টিউটর- এর ডে অফে, কখনো কখনো আমি ওকে পড়াই। কিছুদিন আগে বাংলা ব্যাকরণ পড়াতে গিয়ে- শব্দ কতো প্রকার, সংজ্ঞা ও উদাহরণসহ পড়ালাম। আরেকদিন পড়িয়েছি- কারক ও সমাস। অন্য আরেকদিন পড়িয়েছি- ণ-ত্ব বিধান ও ষ-ত্ব বিধান। পড়াতে গিয়ে পরবর্তীতে যে বিপদে পড়বো তা ভুলেও চিন্তা করিনি।

বিপদটা এলো আজ সকালে। ঘটনাটা খুলে বলি- বাবা ও ছেলের কথোপকথনের মাধ্যমে।

নিসর্গ: বাবা, তুমি না ঐ দিন বললে- তৎসম
          শব্দ ছাড়া অন্যান্য সকল প্রকার শব্দে,ণ-ত্ব
          বিধানিক নিয়মে শব্দের শেষে 'দন্ত্য-ন'
          হয়? শুধু তৎসম শব্দের ক্ষেত্রে মূর্ধন্য-ণ
          হয়?
আমি: হ্যাঁ। ঠিকই তো বলেছি। তোমার ব্যাকরণ
          বইয়ে তো তেমনই লেখা আছে।
নিসর্গ: বলো তো 'পরান' কোন্ শব্দ?
আমি: আমার মনে নেই বাবা। তুমি বলো।
নিসর্গ: ( বই থেকে দেখিয়ে ) এই দেখো,পরান
          হলো- অ-তৎসম শব্দ। অ-তৎসম শব্দে
         ' মূর্ধন্য-ণ' হয় না।
আমি: আচ্ছা। মনে রাখবো বাবা।
নিসর্গ: বাবা, আমরা যে স্টার সিনেপ্লেক্সে গত
          মাসে 'পরান' মুভি দেখেছিলাম,তখন কী
          তুমি একটি বিষয় খেয়াল করেছো?
আমি: কোন্ বিষয়টি বাবা?
নিসর্গ: মুভির পোস্টারে 'পরান' বানান ভুল
          ছিলো।
আমি: তাই!?
নিসর্গ: হ্যাঁ। তুমি তো বোকা। তাই খেয়াল করোনি।
আমি: কেমন ছিলো বানানটা ?
নিসর্গ: 'পরান' শব্দের বানানে শেষ বর্ণ- 'মূর্ধন্য-ণ'
           ছিলো। ওটা 'দন্ত্য-ন' হবে। ওরা ভুল
           করেছে।
আমি: ( মাথা চুলকাতে চুলকাতে রুম থেকে
          চলে যাচ্ছি; পেছন থেকে ডাক দিয়ে-) 
নিসর্গ: বাবা, জানো? আজকেও একটা মুভির
           পোস্টারে বানান ভুল করেছে। তুমি
           আমাকে সমাস পড়িয়েছিলে না?
           আমি ওখান থেকে আজকের
           বিষয়টি জেনেছি। 
আমি: ব্যাকরণ জটিল জিনিস বাবা। সব তো মনে
          থাকে না। 
নিসর্গ: মনে রাখতে হবে। না হলে তো সমস্যা।
আমি: আচ্ছা। মনে রাখবো এখন থেকে। আজকে
          কোন্ মুভির পোস্টারে ভুল বানান
          দেখেছো?
নিসর্গ: মা'র মোবাইলে দেখেছি ( কারো পোস্ট ) 
          আজকে 'জীবনপাখি' নামে একটি মুভি
          আসছে। ওরা 'জীবন' এবং 'পাখি' শব্দ
          দু'টি আলাদা ক'রে লিখেছে। ওটা
          আলাদা হবে না বাবা।
আমি: মানে কী? আমি বুঝতে পারছি না তোমার
          কথা।
নিসর্গ: তুমি তো বোকা। তোমার কিচ্ছু মনে থাকে
           না।
আমি: ঠিক আছে, আমি খুব বোকা। তো বোকা
          বাবাকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলো এবার।
নিসর্গ: ( আবারও বই থেকে দেখিয়ে ) এই দেখো,
           সমাসোক্ত শব্দের পরের শব্দটি কখনো
           আলাদা হয় না। বইয়ে 'জীবনপাখি'
           শব্দটি একসাথে লিখেছে। মুভির
           পোস্টারে লিখেছে আলাদা ক'রে। বুঝতে
           পারছো?
আমি: ওকে, বাবা। এবার বুঝেছি।
নিসর্গ: বাবা, তুমি মুভির ওদেরকে ব'লে দিও,
          ওরা যেনো পোস্টারে বানান ঠিক ক'রে
          দেয়।
আমি: ( কোনো কথা বলতে পারিনি। শুধু 'হ্যাঁ'
           সূচক মাথা নেড়ে পাশের রুমে চ'লে
           গেলাম।)

পুত্রের সাথে কথোপকথন থেকে উপলব্দি হলো- কারও কারও চোখ ফাঁকি দেয়া যায়, সকলের নয়। আমাদেরকে আরও সতর্ক হতে হবে। আমরা ছাড় দিলেও পরবর্তী প্রজন্ম ছাড় দেবে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ