গেলো ১৮আগস্ট নিজের জন্ম দিনে ‘আগন্তুক’ শিরোনামের একটি গান প্রকাশ করে অনেকটাই চমকে দিয়েছেন নিথর মাহবুব। কারণ তাকে শিল্পের অঙ্গনের সবাই মূকাভিনেতা, মঞ্চ নাটকের অভিনেতা, সাংবাদিক হিসেবে জানেন। চরিত্রের প্রয়োজনে ডাক পেলে কাজ করেন টিভি নাটকেও। ‘আগন্তুক’ নামের গানটির সঙ্গীত আয়োজন করেছেন শাইলু শাহ্, মিউজিক করেছেন টফি রেনার। ভিডিওতে মডেল হয়েছেন ফয়সাল মাহমুদ ও গুঞ্জন।
শিল্পের অঙ্গনে নানা শাখায় দখল থাকা নিথর মাহবুব তার নৈপুণ্যে বাংলাদেশের মূকাভিনয় শিল্পে এনেছেন নতুন জাগরণ। ঢাকায় মাইম আর্ট থিয়েটার নামে তার নিজের মূকাভিনয়ের একটি দল রয়েছে। সবচেয়ে মজার বিষয় হল- ‘আগন্তুক’ গান-ভিডিওটির কথা, সুর, কণ্ঠ, চিত্রনাট্য, ভিডিও-চিত্র ধারণ, সম্পাদনা, পরিচালনাসহ প্রায় সবকিছুই নিথর মাহবুবের নিজের কারা। এত কিছু নিজে করার পরেও ব্যতিক্রমী কথামালার জীবনমুখী এই গানটি দর্শক-শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিচ্ছে। গানের বিষয়বস্তু বার বার শুনতে ও দেখতে আকৃষ্ট করছে শ্রোতাদের। যতই দিন যাচ্ছে বাড়ছে ‘আগন্তুক’ এর চলার গতি।
গানটি নিজের ‘Nithor Music’ নামে নতুন একটি চ্যানেলে এবং নিজের ফেসবুকে ১৮আগস্ট বিকেলে তার জন্মদিনে প্রকাশ করেছেন। আশার কথা হল গানের ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকে প্রশংসায় ভাসছেন মূকাকু খ্যাত স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের এই শিল্পী। তার প্রমাণ মিলছে তার ফেসবুকের ওয়ালে। অনেকে জানাচ্ছে তাদের ভাল লাগার কথা, অনেকে এই গানকে শেয়ার, কভার, টিকটকও করছেন।
অনেক স্বপ্ন নিয়ে একসময় দূর দূরান্ত থেকে শহরে আসে তরুণরা, কেমন কাটে তাদের শহরের প্রথম দিকের দিনগুলি? তারই প্রতিচ্ছবি এই গানের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে গানটিতে। এক কথায় ‘আগন্তুক’ গানটি শুনলে ভাল না লাগার কোন কারণ নেই। শিল্পী তার নিজের চোখে দেখা সমাজের নানা দিক গানের কথা ও ভিডিওতে তুলে এনেছেন। গানের চিত্রায়নে আছে লোকেশন বৈচিত্র্য। ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানসহ কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী, জামালপুর জেলার দেওয়ান গঞ্জে এর দৃশ্য ধারণ হয়েছে।
নিথর মাহবুব নরসিংদী জেলা শিল্পকলা একাডেমি থেকে চার বছরের রবীন্দ্র সঙ্গীতের কোর্স করেছেন। এছাড়া তিনি ওস্তাদ প্রমথ বাবুর কাছে রবীন্দ্র সঙ্গীতে তালিম নিয়েছেন। সঙ্গীতে তার আরেক গুরু কেশব ঘোষ। তার কাছে শিখেছেন উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত। তবে তিনি গান শিখলেও মঞ্চ নাটকেই বেশি আগ্রহী ছিলেন। যে কারণে গান নিয়ে কখনোই সামনে আসেননি। প্রায় ৮বছর আগে আগন্তুক গানটি নিজে লিখে নানা জনকে সুর করতে দিয়েছিলেন কিন্তু সেসব সুর পছন্দ হয়নি বলে পরে নিজেই গানের সুর করে নিজের কণ্ঠে তুলে নেন।






0 মন্তব্যসমূহ