কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থানার ছনাটি খানবাড়িতে জন্ম নেওয়া হানিফ খান ছোটবেলা থেকেই গানের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রাখতেন। পরিবারের সঙ্গে গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা, স্থানীয় উৎসব, মানুষের গান-আড্ডা—সবই তার সঙ্গীতের মূল অনুপ্রেরণা। ২০১২ সালে মিডিয়ায় পা রাখার পর তার প্রথম গান "সোনার চান" প্রকাশিত হয়, যা গেয়েছিলেন মেহেদী হাসান সবুজ। গানটি শোনার পরই শ্রোতাদের মধ্যে তার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়।
“গান আমার জন্য কেবল শব্দ নয়, অনুভূতির প্রকাশ। গ্রামের মাটি, ছনাটি খানবাড়ির স্মৃতি, মানুষের হাসি-কান্না—সবই আমার গানকে প্রাণ দেয়,” হানিফ খান বলেন।
পরবর্তী বছরগুলোতে হানিফ খান অসংখ্য গান লিখেছেন এবং সুর করেছেন, যা কণ্ঠ দিয়েছেন দেশের বহু জনপ্রিয় শিল্পী কাজী শুভ, সাথী খান, ইমন খান, ফজলুর রহমান বাবু, লায়লা, আশিক, গামছা পলাশ, ঐশি, আবু বকর সিদ্দিক, পুষ্পিতা মিত্র, সুমি শবনম, সুমি মির্জা। তার উল্লেখযোগ্য গানগুলোর মধ্যে রয়েছে "কলঙ্ক", "তোমারে বউ বানাবো", "পারবো না ভুলতে তোকে", "ঈদ মোবারক", "বৈশাখ এলো রে", "নতুন কি আর আছি", "যাও রে পাখি মুক্ত এবার", "বংশের কি নিতি", "লাল শাড়িতে চাঁদ বদনী", এবং "রূপা অভিশাপ দেব না"।
“প্রতিটি গানে আমি আমার অনুভূতি, গ্রামের স্মৃতি এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবন ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করি। শ্রোতা যদি আমার গান শুনে নিজেকে চিনতে পারে, আমি মনে করি আমার কাজ সফল হয়েছে,” হানিফ খান জানান।
হানিফ খানের গানগুলো সাধারণ বিনোদন নয়, বরং মানুষের অনুভূতি, প্রেম, সামাজিক বাস্তবতা ও গ্রামীণ জীবনের গল্পকে তুলে ধরে।
তিনি বলেন,“আমি নতুন সুর ও গান নিয়ে সব সময় পরীক্ষা চালাই। কখনও সহজ প্রেমের গান, কখনও গ্রামের রঙের গান—সবই আমার অভিজ্ঞতা থেকে আসে। গান মানে শুধু মজা নয়, এটি মানুষকে ভাবাতে ও সংযুক্ত করতে পারে—এটাই আমার লক্ষ্য।”
বর্তমানে হানিফ খান প্রায় শতাধিক নতুন গান প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তার সৃষ্টিশীলতা এবং একনিষ্ঠতা তাকে বাংলাদেশের সঙ্গীতমঞ্চে বিশেষ অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। শ্রোতারা তার নতুন গানগুলোর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, যা শীঘ্রই প্রকাশ পাবে এবং তার সুরের জাদু আরও বিস্তৃত করবে।






0 মন্তব্যসমূহ